ঋত্বিক-অভিযাত্রার পরশপাথরময় পথটিকে, বিস্মৃতিপ্রবণ আমরা, অনায়াসে পরিত্যক্ত ও সংকুল করে ফেলেছি। আগামী শিল্পের অচিন্ত্যপূর্ব তাৎপর্যের যে-অনাদৃত সিন্দুক ঋত্বিক আমাদের কাছে রেখে মাঝপথে চলে গেলেন, তাঁর মরকতমণি আমরা হেলায় ফেলে রেখেছি আমাদের মধ্যমেধার কচুরিপানার আড়ালে। সেই উদ্ধারকার্যের অঘোষিত অধিনায়ক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের হৃতবিলুপ্ত রচনাগুলি আমরা সযত্ন একত্রীকরণে প্রয়াসী হলাম এই অসময়ে। এই পুস্তিকাটি তার প্রস্তাবনা মাত্র। আজ, কাল ও দূরাগত পরশুর জন্য।
লোক সেবা শিবির-এর প্রকাশনায় স্বাগত।
Welcome to the world of Loke Seva Shibir publication.
নতুন বই – New Title
পাঠকের পছন্দ
গ্রন্থপরিচয়

‘গীতবিতান এর সহজ পাঠ’ রবীন্দ্রগানের কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের বই নয়। একটি রবীন্দ্রগান শোনবার আগে শ্রোতা হিসেবে লেখকের মানসিক স্থিতি কেমন ছিল, অতঃপর সেই গানটা শোনবার পর তাঁর বিচলিত হৃদয়ে তা কী ভাবে দোলা দিয়েছে, শুধু সেইটুকুই উল্লেখ করবার জন্যে এ গ্রন্থের অবতারণা। রবীন্দ্রনাথের গানকে বুকে আগলে রাখার এই একান্ত নির্জনতাটুকুই কেবলমাত্র ধরা রইল ‘গীতবিতান এর সহজ পাঠ’-এ।
‘গীতবিতান’-এর ‘পূজা’ পর্যায়ের সর্বমোট ছশো সতেরোটি গান নিয়েই ‘গীতবিতান এর সহজ পাঠ’।প্রথম খণ্ডে থাকছে এক থেকে তিনশো পর্যন্ত গান। দ্বিতীয় খণ্ডে থাকবে বাকি তিনশো সতেরোটি গান।

নীড়ের খোঁজে
মেয়েটি থাকে এক শহরে, কাজ করে এক সিগারেট তৈরির কারখানায়। জীবনে সুযোগ এল এক জাদুকরের সহকারিণীর কাজ নিয়ে একটি বিলাসবহুল জাহাজে চড়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার। কিন্তু মেয়েটির সিদ্ধান্ত তাকে ভিন্ন পথে নিয়ে গেল। আজ, অর্ধেক জীবন কাটার পর, হঠাৎ তার মনে পড়ে যায় কবেকার ভুলে যাওয়া জীবনের সেই সন্ধিক্ষণের কথা। এখন সে থাকে উত্তরের সমুদ্রতটে, এক গ্রামাঞ্চলে। সেখানে নিজের জন্যে একটা বাড়ির ব্যবস্থা করে নিয়েছে। সাবধানে এক বন্ধু নির্বাচন করেছে, আরেকবার একটা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। মেয়েটি কি ওখানেই থেকে যাবে, না কি আবার নতুন জীবনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়বে? লেখিকা ইউডিট হেরমান্ন্ লিখেছেন এক স্মৃতিচারণের গল্প, জীবনের বাঁকে সিদ্ধান্ত নেবার আর সেই সব মুহূর্তের যখন দ্বিধাবিভক্ত পথের একটি বেছে নিয়ে আবার নতুন যাত্রা শুরু হয়। মূল জার্মান উপন্যাস ‘ডাহাইম’। লেখিকা ইউডিট হেরমান্ন্। বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুনন্দা বসু।

কথা আর নীরবতার সীমান্তে
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের থেকে আসা মানুষের জাতি, সাহিত্য আর সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র লাতিন আমেরিকা। পঞ্চদশ শতক থেকে ইয়োরোপের আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (মূলত স্পেন, পর্তুগাল) থেকে দলে দলে দস্যুরা আসতে থাকে। ভূমিজ ইন্ডিয়ান যাঁরা এখানে বাস করেছেন হাজার হাজার বছর এবং গড়ে তুলেছেন মাইয়া, ইনকা, আসতেক প্রভৃতি সভ্যতার ভিত্তিভূমি – গণহত্যা ও আরও নানান উপায়ে তাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে – কেবল বলিভিয়া, পেরু ও গুয়াতেমালায় তাঁরা দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। অন্য দেশগুলিতে তাঁদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ‘মেস্তিসো’ মূলত শ্বেতকায় পুরুষ ও ভূমিজ নারীর বর্ণসংকর প্রজাতি। এল সালভাদোর, পারাগুয়াই ও ওন্দুরাসে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্য কয়েকটি দেশে প্রধান সংখ্যালঘু। ‘মুলাটো’ ইয়োরোপ থেকে আসা শ্বেতকায় ও আফ্রিকা থেকে বলপূর্বক ধরে আনা কৃষ্ণকায় মানুষের মিশ্রণ, দোমিনিকান রিপাবলিকে এঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্য দেশে সংখ্যায় খুবই কম। এই সব মানুষেরই অবদান রয়েছে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে।

শ্রীকেউ-না-র সাত কাহন
সত্যজিৎ রায়, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য আর প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্য, কাছাকাছি সময়ে শুনিয়েছিলেন মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্প। আকস্মিক নয়। ওঁদের মোল্লা, আমাদের গোপাল ভাঁড়। জুল ভার্নের ক্যাপ্টেন নিমো, বা নানাসাহেব ধুন্দুপন্থ। বের্টোল্ট ব্রেখ্টের শ্রীকেউ-না। শ্রীকেউ-না-র গল্পগুলো, এই বইতে তোড়ায় বাঁধা হল। সঙ্গে ব্রেখ্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ, মার্কিন সংসদে পেশ করা তাঁর জবানবন্দি, বিবৃতি, আর সমকালের ঘটনাবলির (১৮৯৮ – ১৯৫৬) সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

হ্বেরনের হেরৎসগ – জীবনী সাক্ষাৎকার নির্মাণপঞ্জি
পাঠ এমন চরমে পৌঁছয় যে, তা যেন দ্যুতিময় হয়ে ওঠে, ঠিক যেন ধর্মীয় মন্ত্র৷ এই গুণাবলিই আমি ফিল্মে, সাহিত্যে দেখতে চাই . . . . এমন চরম যে, লেখক নিজেই কোনোভাবে পেরিগ্রিন হয়ে গেছেন আর সেই পেরিগ্রিন ক্রমশ আরও ওপরে উঠতে উঠতে এক বিন্দু হয়ে যায় আর তারপর “ঝাঁপ দিয়ে নেমে আসি আমরা”, এই ‘আমরা’ দেখায় যে, লেখকই পেরিগ্রিন। — হ্বেরনের হেরৎসগ।

বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় স্মারকগ্রন্থ
১২৫তম জন্মবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বিজয়লাল চট্টোপাধ্যায় (১৮৯৮ – ১৯৭৪) মুক্তিসংগ্রামী চারণকবি, দেশব্রতী ও সাংবাদিক। জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। ১৯২০-২১ খ্রিস্টাব্দে বি. এ. পড়ার সময়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান ও নদিয়া জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক। জীবনের প্রথমদিকে সুভাষচন্দ্র, হেমন্তকুমার সরকার ও কবি নজ়রুলের অনুসারী হলেও, রাজনৈতিক আদর্শে তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ গান্ধিবাদী। ১৯২২ ও ১৯২৩-২৪-এ কারাদণ্ড। রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে ১৯২৪-২৫ সালে শান্তিনিকেতনে শিক্ষকতা করেছেন। কর্মজীবনে পেশা ছিল সাংবাদিকতা। বহু পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক থাকাকালে তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘সব-হারাদের গান’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩০-এ কলকাতার সাংবাদিকতার কাজ ছেড়ে লবণ-সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময়ে নদিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ ও কারাবরণ। ১৯৩৪-এ ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় যোগদান; সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার অন্যতম সংগঠক ও প্রথম সহ-সম্পাদক। ১৯৪২-এ আবার আন্দোলনে যোগ দিয়ে এক বছর জেলে কাটান। পরে ‘দৈনিক লোকসেবক’, ‘কৃষক’, ‘ঊষা’ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। উত্তরকালে ‘চারণকবি’ হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। রবীন্দ্রকাব্য ও তাঁর জীবনের একজন বিশিষ্ট সমালোচক, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁর রবীন্দ্রনাথ সংক্রান্ত গ্রন্থ ‘বিদ্রোহী রবীন্দ্রনাথ’ ১৯৩২ সালে ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ১৯৪৪ থেকে কৃষ্ণনগরের ‘শ্রীরামকৃষ্ণ পাঠাগার’ নামক সংস্থার মাধ্যমে সমাজ-গঠনমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীকালে নদিয়া জেলার বড় আন্দুলিয়ার পল্লি-পরিবেশে আমৃত্যু গঠনমূলক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কাজে লিপ্ত ছিলেন। সমাজ-সংগঠক ও শিক্ষাব্রতী হিসাবে লোক সেবা শিবির স্থাপন করেন।

সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ
এই বইয়ের প্রথম মুদ্রণের পর হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “পবিত্রর এই বই আগাগোড়া পড়তে না পারলেও বেশ খানিকটা পড়েছি। ভালোই লেগেছে বলতে দ্বিধা নেই। গৌতমের (চট্টোপাধ্যায়) মুখবন্ধটি বইয়ের পরিচয় সুন্দরভাবে দিয়েছে। কালান্তর-এ গৌতম নিয়োগীর সমালোচনা দেখলাম— খুব সময়মতো বেরিয়েছে। পরিশিষ্ট-এর সংখ্যা একটু বেশি, যদিও তার তথ্যসম্ভার মূল্যবান। …খুঁটিনাটি বিষয়ে কিছু বলব না, তবে নিশ্চয়ই তোমার রচনাকে তারিফ জানাব। অনেক সচরাচর অজানা খবর বেশ ভালোভাবে তুমি তুলে ধরতে পেরেছ।” বিশিষ্ট সাংবাদিক পবিত্রকুমার সরকার এই বই লিখেছেন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে, নামকরণ করেছেন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ। এখানে পরিশিষ্টসহ পনেরোটি অধ্যায় আছে। রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনারীতির নানা দিক এ বইয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর স্বকালের প্রায় সব বিতর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু আলোচনা করেন। তা ছাড়া সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি কী-কী বিষয়ে কাদের মতামত প্রকাশ করেন, এখানে তার পরিচয় আছে। আরও অনেক প্রসঙ্গ রবীন্দ্রনাথ নিজেই উত্থাপন করেন। ভিন্ন মতকে গ্রহণ করতে না-পারলেও, সেগুলোকে তিনি অশ্রদ্ধা বা অবজ্ঞা করতেন না। এ ভাবে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের এক অবয়ব তিনি তৈরি করেছিলেন।

ঠাকুরবাড়ির ভাষাচর্চা
উত্তর কলকাতার ৬/৪ দ্বারকানাথ টেগোর লেনের লালবাড়িটি নিয়ে মানুষের কৌতূহল অন্তহীন। সেটি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। সুবিশাল এই হর্ম্যরাজি বঙ্গসংস্কৃতির চলমানতায় একাধিক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ঠাকুরবাড়ির ভাষা ও ভাষাচর্চা নিয়ে সেভাবে কোন আলোকিত ইতিহাস ছিল না। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে ভাষা নিয়ে সুনির্দিষ্ট শীল ও শীলনের ঐতিহ্য প্রথম তৈরি করেছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। অতঃপর তাঁর সুযোগ্য পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাতৃভাষাপ্রীতি ও সাহিত্যচর্চা উত্তরকালের কাছে পাথেয় হয়ে উঠল। মহর্ষির সন্তানেরা সরাসরি বাংলা ব্যাকরণ চর্চায় বৃত হয়েছেন। প্রাদেশিক কিংবা বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা অনুবাদে আত্মনিয়োগ করেছেন। বাংলা গদ্যশৈলীকে নিয়ে মেতে উঠেছেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ, হেমেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাচর্চার এই প্রবাহকে শিল্পিত মননের অভিজ্ঞান করে তুলেছেন তাঁদের লেখায়। অনালোকিত সেই ভাষাচর্চার আলোকময় রূপালেখ্য ‘ঠাকুরবাড়ির ভাষাচর্চা’।বিদ্যাসাগরের বহুমুখী সমাজ-ভাবনা, শিক্ষা-ভাবনা (বিশেষত নারীশিক্ষার বিস্তারে), কৃষি-ভাবনা, সর্বোপরি মানবহিতকর বহুবিধ ভাবনা ও কর্ম বিষয়ে বিভিন্ন রচনার সমাহার এ বই। বিদ্যাসাগরের জীবনের ও কাজের অনালোকিত দিকগুলো তুলে ধরার প্রচেষ্টায় বিদ্যাসাগর চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র প্রকাশিত।

ফরাসি কথাসাহিত্যিক পাত্রিক মদিয়ানোর জন্ম ৩০ জুলাই, ১৯৪৫, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বিধ্বস্ত প্যারিস শহরে। ভাঙাচোরা শহরটির সঙ্গে পায়ে পা ফেলে বেড়ে উঠেছেন তিনি, প্যারিস হয়ে উঠেছে তাঁর অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লা প্লাস দে লেতোএল’, তখন তাঁর বয়স তেইশ পূর্ণ করেনি।
তাঁর সাহিত্যের বিষয়বস্তু স্মৃতি, স্মৃতির অবলুপ্তি, স্বরূপত্ব (আইডেন্টিটি) এবং নিহিত পাপবোধ। অসংখ্য, বিচিত্র চরিত্রেরা উঠে আসে তাঁর উপন্যাসের পাতায়— তাঁরা খেটে খাওয়া ছাপোষা, সংসারী মানুষ নন, তাঁদের জীবনে রয়েছে তমসাময় অধ্যায়, অপরাধ, বিশ্বাসঘাতকতা, নাটক, সিনেমা, ফোটোগ্রাফি, গুলিগোলা, প্ল্যানচেট, মৃতের তত্ত্ব, যুদ্ধ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং আরও অনেক কিছু। হঠাৎ করে উপন্যাসের পাতায় উদয় হয় তাঁদের, আবার একদিন তাঁরা হঠাৎই হারিয়েও যান। তাঁর বেশিরভাগ লেখাই আত্মজৈবনিক, গদ্যরীতি নির্মেদ, নিস্পৃহ, তাতে একটিও অতিরিক্ত শব্দ নেই, রয়েছে আত্মপরিচয় খুঁজে নেওয়ার প্রচেষ্টা। মদিয়ানোর প্রায় প্রতিটি লেখাই শুরু হয় বাস্তবতায়— একটি মানুষ, একটি ঘটনা অথবা দুর্ঘটনা। পটভূমি প্যারিসের পথ, বাসস্টপ অথবা মেট্রো স্টেশন— কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যা অথবা গভীর রাত— আধো অন্ধকারে একটি পুরানো বিল্ডিং; কিন্তু এর পরেই তাঁর স্বপ্ন দেখার সূচনা— অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি জানেন না এর পরে কী ঘটতে চলেছে।

সরলা দেবীর ভ্রমণকথা
সরলা দেবী লিখিত নানা ভ্রমণকথার পাশাপাশি তাঁর সুবিখ্যাত স্মৃতিকথা ‘জীবনের ঝরাপাতা’ গ্রন্থের নানা অংশে ছড়িয়ে আছে ভ্রমণকথা। সেই সব চয়ন করে গড়ে তোলা ‘সরলা দেবীর ভ্রমণকথা’। গ্রন্থের রচনাগুলি প্রকাশের কালানুক্রমে সাজানো হল। প্রথম লেখাটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দে এবং শেষ লেখাটি ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত। অর্থাৎ, সুদীর্ঘ চল্লিশ বৎসরব্যাপী ভ্রমণকথা লিখেছিলেন সরলা দেবী। তাঁর সমস্ত ভ্রমণকথা এই প্রথম একত্রিত করা হল।

চারটে দশের ঘণ্টা
কোনও চরিত্রই ততটা কাল্পনিক নয়। আত্মজৈবনিক নয়, বরং এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে লিখিত স্মৃতিনির্ভর গদ্যে পাঠক খুঁজে পেতে পারেন ফেলে আসা আটের দশক, যা সদর শহর মেদিনীপুর, খালশিউলি বা মাওয়া গ্রামের অনুষঙ্গে লুপ্ত কালের ধারাভাষ্য দিতে উন্মুখ।

বদল - কাফকা
কী ভাবে কোনো সমাজ কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ করে, কী ভাবে স্বতন্ত্র, অসদৃশ কাউকে অবজ্ঞা উপেক্ষা বা অগ্রাহ্য করা হয়, বাদ দিয়ে, ছেঁটে ফেলে শেষ পর্যন্ত দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় — এই সহমর্মিতার অভাব আর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, এই ভীতিপ্রদ বাস্তবিক আতঙ্ক, যার ফলে একা ব্যক্তির মৃত্যুকেই বেছে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না — সেই বিভীষিকার অনুপুঙ্খ দলিল Die Verwandlung লেখা হয় ১৯১২ সালে। সমাজ, পরিবার আর প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার মুখোমুখি নিজের সংক্ষিপ্ত জীবনকালে প্রতিহত হতে-হতে ফ্রানৎসও গুটিয়ে নিয়েছেন ক্রমাগত নিজেকে। সম্ভবত, সেই কারণেই চেয়েছিলেন তাঁর কোনো লেখাই যেন কেউ না পড়েন। আজকের দুনিয়ায় যখন ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য প্রতিপদে লাঞ্ছিত, তখন কাফকার এই মনন ফিরে দেখা আর অনুভব করার জন্যেই এই উদ্যোগ।

এক সংগ্রামের বিবরণ - কাফকা
‘…এবার এল হত্যা৷ আমি তার কাছেই থাকব আর সে সেই ছোরা, যার হাতল সে পকেটের ভেতরেই ধরে আছে, তার কোটের গা ঘেঁষে ওপরে ওঠাবে আর তারপরে আমাকে মারবে…’ ‘…আমি চিৎকার করব না, কেবল তার দিকে তাকিয়ে থাকব, যতক্ষণ চোখ খোলা থাকবে…’ ‘…অন্য হাত দিয়ে সন্ত লুডমিলার মূর্তির দিকে দেখিয়ে আমার সঙ্গী বলল, ‘চিরকাল আমি এই দেবকন্যার বাঁ হাত দেখে মুগ্ধ হয়েছি…’ ‘…আমার মনে হলো, এই কেরামতি অদরকারি, কেন না চতুর্থ কার্ল সত্যিই খসে পড়লেন, ঠিক যখনই আমার মনে হলো যে, আমি এক সুন্দর সাদা পোশাক পরা কোনো তরুণীর প্রেমের পাত্র হয়ে উঠতে পারি…’ প্রাহার রাস্তায় রাস্তায় সারা রাত ধরে এমনই সব চমকে দেওয়া পরিস্থিতিতে গড়ে ওঠা গল্প ‘এক সংগ্রামের বিবরণ’।






















































