“‘সেই মহাবরষার রাঙা জল’ লেখাটি ১৩৭৫ সালের শারদীয়া ‘কম্পাস’-এ প্রকাশিত হয়। ‘কম্পাস’ এই লেখাটির জন্য গর্বিত। এমন চিত্ত উদ্বেলকারী স্মৃতিচারণা বাংলা ভাষাতেই দুর্লভ বলা চলে। এরকম অন্তরের অশ্রুজল দিয়ে লেখা সযত্নসঞ্চিত অম্লান বেদনাবোধ থেকেই আসে, হয়তো বারবার আসে না, বিভূতিদা নিজেও বলেছেন, যখন আমরা অনেকেই অনুরোধ করেছি, আরও লিখুন। … এমন লেখা নিজের গুণেই মহিমান্বিত, সৌন্দর্যে, বেদনায় ও অনুভূতিতে কালোত্তীর্ণ এক সৃষ্টি।
“লেখাটা লম্বা নয়, লম্বা করার চেষ্টাও করা হয়নি, ইনিয়েবিনিয়ে বাড়িয়ে বৃহৎ কোন গ্রন্থ রচনা করার চেষ্টা নেই। এ যেমন সংক্ষিপ্ত, তেমনি ঋজু, ভাবসম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি অমূল্য মানবিক ও ঐতিহাসিক দলিল। যেন একটা বৃহৎ সংগ্রামী যুগের ঘনসন্নিবিষ্ট ঘনীভূত এক স্তব্ধ অথচ বাঙ্ময় ছবি, যার অনুরণন সর্বকালে সকল সহৃদয় পাঠককে ক্ষণেকের জন্য হলেও স্তম্ভিত বিস্ময়ে অভিভূত করে তুলবে। যতবার পড়েছি, ততবার এই বিস্ময় অনুভব করেছি। সঙ্গে সঙ্গে হৃদয় ভারাক্রান্তও হয়েছে।
“স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে শহিদরা যে দৃঢ় প্রত্যয়, বিশ্বাস ও স্বপ্ন নিয়ে ফাঁসির মঞ্চে হাসতে হাসতে প্রাণ দিয়ে গেছেন, সেই মহিমাময় ইতিহাসের সাক্ষ্য হিসেবে বিভূতিদার এই লেখাটি হয়তো আমাদের মত যারা দীর্ঘজীবী তাদের সকলকেই একই সঙ্গে অভিভূত ও লজ্জিত করবে। এ জাতীয় ঘটনার সাক্ষ্য হয়তো আমরা অনেকেই কিছু কিছু দিতে পারি, কেননা অনেকেই এই পথ অনুসরণ করে জীবন উৎসর্গ করার পণ করেছিলাম, কিন্তু ওঁদের সঙ্গে মরতে না পেরেই হয়তো আমাদের সত্যিকার মরণ হয়েছে, কোথায় যেন একটা অপরাধ হয়ে আছে।” —পান্নালাল দাশগুপ্ত






